জয়ের রূপকল্পেই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশ : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের রূপকল্পেই বাংলাদেশ ঠিক সময়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে যুক্ত হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ।

সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে ‘মুজিব থেকে সজীব’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনকালে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, গ্রন্থটির প্রকাশক জয়িতা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী সাংবাদিক ইয়াসিন কবীর জয় ও প্রচ্ছদ শিল্পী শাহরিয়ার খান বর্ণ এ সময় বক্তব্য রাখেন। গ্রন্থটির সম্পাদক কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত অনলাইনে যোগ দেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক অবৈতনিক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্পকার, যে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাস্তবে রূপায়িত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব অর্থাৎ দেশ-সমাজকে ডিজিটালাইজ করা, রোবটিক্স প্রযুক্তি প্রভৃতির প্রয়োগে যোগ দেওয়ার জন্যেই শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা বলেছিলেন। কারণ, প্রথম তিন শিল্প বিপ্লবে আমরা যুক্ত হতে দেরি করেছি। প্রথম শিল্প বিপ্লব বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের প্রায় ১০০ বছর পর, দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব বিদ্যুৎ আবিষ্কারের বেশ কয়েক দশক পর এবং তৃতীয় শিল্প বিপ্লব কম্পিউটার আবিষ্কারেরও বেশ পরে আমরা সেটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম।

মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান যেখানে আমরা দিয়েছি ২০০৮ সালে, সেখানে ডিজিটাল ভারতের স্লোগান এসেছে ২০১৪ সালে, এমনকি যুক্তরাজ্যও আমাদের কয়েক বছর পর ডিজিটাল দেশ রচনার স্লোগান দিয়েছিল। অর্থাৎ প্রথম তিনটি শিল্প বিপ্লবে আমাদের এই জনপদ পিছিয়ে থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রযুক্তিবিদ ও ভবিষ্যৎ দ্রষ্টার কাছ থেকে ধারণা আসার কারণে আমরা ঠিক সময়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।

ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে আ. লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ২০০৮ সালে এই ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণাটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকেই এসেছিল এবং তার ধারণাপ্রসূত এই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে যখন দেয়, তখন অনেকেই এটি নিয়ে হাস্যরস করেছিল, অনেকেই এটি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ কোনও স্বপ্নের কথা নয়, আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবে রূপায়িত হয়েছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে যখন করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে আমরা আগের মতো চলাচল করতে পারছি না, তখন ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনা করা যে কত প্রয়োজন ছিল, সেটি আমরা অনুধাবন করতে পারছি। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করছে, অনলাইনে ব্যবসা-বাণিজ্য হচ্ছে, ই-ফাইলিংয়ের মাধ্যমে দাফতরিক কাজ হচ্ছে। আর ডিজিটাল বাংলাদেশ নাগরিক সেবা একেবারে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে।

২০১০ সালে ইউএনডিপির তৎকালীন মহাপরিচালক হেলেন ক্লার্কের সঙ্গে চরকুকরি-মুকরিতে ডিজিটাল সেন্টার তথ্য বাতায়ন কেন্দ্র উদ্বোধন করতে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘তখন সেখানে বিদ্যুৎ ছিল না, সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছিলাম। আর হেলেন ক্লার্ক নিউ ইয়র্কে গিয়ে তার বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘চরকুকরি-মুকরিতে যে রেজ্যুলেশন পেয়েছি, তা অনেক সময় নিউ ইয়র্কেও পাওয়া যায় না। এমনভাবেই তখন থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের সেবা মানুষের কাছে পৌঁছেছে। এখন একজন পিতা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়া ছেলের কাছ থেকে টাকা পেয়ে যান, শিক্ষার্থীরা এসএমএস করে, ফিরতি এসএমএসের মাধ্যমে তার কাছে পরীক্ষার ফলাফল চলে আসে, বাংলাদেশের শেষ প্রান্তে বসে কিংবা বঙ্গোপসাগরের নির্জন দ্বীপ থেকেও একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে দরখাস্ত করতে পারেন— এটিই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ।

সজীব ওয়াজেদ জয়কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, চার চারবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মদিনে আমি তাকে আমাদের সবার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তিনি সব শিক্ষার্থীর স্বপ্নের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করা, উচ্চশিক্ষিত। তার নেতৃত্ব ও সঠিক দিকনির্দেশনা বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন। যেভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে তিনি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, ভবিষ্যতেও তিনি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

তথ্যমন্ত্রী এ সময় ‘মুজিব থেকে সজীব’ গ্রন্থের প্রকাশক, সম্পাদক এবং প্রচ্ছদ ও অঙ্গসজ্জাকারসহ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘জয়িতা প্রকাশনী দু’টি বই প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে এই জন্মদিনকে আরও অর্থবহ করেছে বলে আমি মনে করি।’

১১২ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থে দেড় শতাধিক সংবাদচিত্র স্থান পেয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘সজীব ওয়াজেদ জয়: সমৃদ্ধ আগামীর প্রতিচ্ছবি’ শিরোনামে আরও একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে জয়িতা প্রকাশনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap