তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ছাড়বে জাপান?

ধ্বংস হয়ে যাওয়া ফুকুসিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় পানি পরিশোধন করে সাগরে ছেড়ে দিতে যাচ্ছে জাপান। দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই পানির নিস্পত্তি কিভাবে কা হবে তা নিয়ে কয়েক বছরের বিতর্কের পর অবশেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবেশবাদী ও মৎস আহরণকারী বিভিন্ন গ্রুপ জাপানের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে তবে অনেক বিজ্ঞানী বলছেন, এর ঝুঁকির পরিমাণ খুবই কম। জাপান সরকার বলছে, এনিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ২০১১ সালের ভয়াবহ সুনামিতে ধ্বংস হয়ে যায় জাপানের ফুকুসিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এর প্লান্ট ঠান্ডা করতে ব্যবহার হওয়া লাখ লাখ টন পানি নিয়ে বিপাকে পড়ে জাপান সরকার। তেজস্ক্রিয় এই পানির নিস্পত্তি নিয়ে দেশটিতে শুরু হয় বিতর্ক।

তেজস্ক্রিয়তা কমিয়ে আনতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির পানি পরিশোধন করেছে জাপান সরকার। দেশটির জাতীয় দৈনিক নিক্কেই এবং দ্য ইয়োমিউরি সিম্বানসহ কয়েকটি দৈনিক জানিয়েছে, পরিশোধন করা এসব পানি ২০২২ সাল থেকে সাগরে ছেড়ে দেওয়া হবে।

দ্য ইয়োমিউরি সিম্বান জানিয়েছে, সাগরে ছেড়ে দেওয়ার আগে এসব পানির ৪০ শতাংশ কম তেজস্ক্রিয়তা মুক্ত করতে পরিশোধন করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সময় লাগবে ৩০ বছর। দেশটির বার্তা সংস্থা কিয়োদে জানিয়েছে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই মাসের শেষ দিকে নেওয়া হতে পারে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি জমা হওয়া পানি পরিশোধনের মাধ্যশে বেশিরভাগ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ মুক্ত করা হয়েছে। তকে ট্রিটিয়াম নামে একটি আইসোটোপ মুক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় এগুলো কেন্দ্রের বিশালাকার ট্যাংকে জমা রাখা হচ্ছে। ২০২২ সাল নাগাদ ট্যাংকটি পূর্ণ হয়ে যাবে।

শুক্রবার জাপানের শিল্পমন্ত্রী হিরোশি কাজিয়ামা জানিয়েছেন, এসব পানির নিষ্পত্তি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকার শিগগিরই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা করছে।

পরিবেশবাদী গ্রুপগুলো দীর্ঘ দিন থেকেই এসব পানি সাগরে ছেড়ে দেওয়ার বিরোধিতা করছে। মৎস শিকারি গ্রুপগুলোও এর বিরোধিতা করে বলছে, ভোক্তারা এই অঞ্চলের মাছ কেনা ছেড়ে দিতে পারে।

তবে কোনও কোনও বিজ্ঞানী বলছেন, সমুদ্রের বিশাল জলভান্ডারে শিগগিরই বিলুপ্ত হয়ে যাবে ওই পানির তেজস্ক্রিয়তা। এছাড়া ট্রিটিয়াম মানুষ ও পশু স্বাস্থ্যের জন্য খুব কম ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মনে করেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap