দুর্নীতির বীজ বপন করেছে জিয়া-এরশাদ-খালেদা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবাদপত্র তো মানে সমাজের দর্পণ। সেই সমাজের দর্পণ যেটা হবে সেটার জন্য মানুষের চিন্তা চেতনাটা যেন অন্তত দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়, তাদের ভেতর মানবতা বোধটা যেন থাকে, তারা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে।

তিনি বলেন, একটা সময় আমাদের দেশে যতই দুর্নীতি হোক যতই অন্যায় হোক, সেগুলোকে ধামাচাপা দেওয়া হতো। আর সমস্যাগুলো কাগজের নিচে লুকিয়ে রাখা হত। আমাদের সরকার কিন্তু আমরা তা করছি না। কোথাও কোনো দুর্নীতি বা অন্যায় হলে আমরা কিন্তু কখনো এই চিন্তা করি না যে এর সঙ্গে আমার দল জড়িত কিনা বা আমার অমুক জড়িত কিনা বা আমার পার্টির কোনো বদনাম হবে কিনা সরকারের বদনাম হবে কিনা। আমি চিন্তা করি যেখানে অন্যায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। হ্যাঁ নিতে গিয়ে অনেক সময় দোষটা আমাদের ওপরে এসে পড়ে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির রজত জয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছিলেন। এ সময় ইন্টার কন্টিনেন্টালে হোটেলে রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, সহ-সভাপতি নুরুল কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই বোধহয় দুর্নীতি করছে ঘটনা তা নয়। দুর্নীতির বীজ বপন করে গেছে ৭৫ এর পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সরকারগুলো। প্রথমে জিয়াউর রহমান এরপর এরশাদ এরপর খালেদা জিয়া। আর তারা দুর্নীতিকে শুধু প্রশ্রয় দেয়নি, নিজেরা দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিল এবং দুর্নীতিকে লালন পালন করে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর আমরা কিন্তু সেটা কখনো করছি না।

তিনি বলেন, আপনারা নিজেরাই চিন্তা করেন এই দেশে জঙ্গিবাদরা নিজেরাই প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছে। সরকারিভাবে তাদের প্রটেকশন দেওয়া হয়েছে। পুলিশ পাহারা দিচ্ছে বাংলা ভাই অস্ত্র নিয়ে ট্রাকে করে মিছিল করেছে। এই ঘটনা তো আপনারা দেখেছেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর সেই খুনিদের বের করে দেওয়া হলো। জজ মিয়া নামে একজনকে নিয়ে এসে নাটক সাজানো হলো। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা করে না। আমরা যেখানে দুর্নীতি পেয়েছি সে যত বড়ই দলের হোক, কর্মীর হোক সাথে সাথে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিচ্ছি না। বাংলাদেশে হলি আর্টিজানের মতো বহু ঘটনা ঘটেছে। অনেকে ভেবেছিল এটা বোধ হয় বাংলাদেশ একা সামাল দিতে পারবে না। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমরা সেটা সামাল দিয়েছিলাম এবং পরবর্তীতে আর যেন এরকম ঘটনা না ঘটে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের পুলিশ, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী বিজিবি আনসার বাহিনী থেকে শুরু করে যতগুলো সংগঠন আছে সবাইকে সক্রিয় করেছি। দেশের মানুষের সচেতনতায় জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটা মানসিকতা গড়ে তোলা হয়েছে। মানুষ যদি সাথে না থাকে মানুষ যদি পাশে না থাকে তাহলে কোনো কিছু অর্জন করা যায় না। আমরা সেটাই বিশ্বাস করি। এবং আমরা সেভাবেই কাজ করি। কারণ আমরা জাতির পিতার আদর্শ নিয়েই চলি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা দেশ স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রেসক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়নের বার্ষিক সাধারণ সভায় একটি বক্তব্যে দিয়েছিলেন ‘বিপ্লবীয়ের পর যেকোনো দেশ এতটা স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে নাই যা আমরা করছি। আমরা ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও বিশ্বাস করি। এজন্য গণমাধ্যমের কোনো কাজে কখনো হস্তক্ষেপ করি নাই। আমার সরকার সংবাদ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছে এমন নজির কেউ দিতে পারবে না’। কথাগুলো সত্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap