দেশে দারিদ্র্য হার দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের অঘোষিত লকডাউন যদি আগামী তিন মাস চলে, তবে দারিদ্র্যের হার দ্বিগুণ হবে বলে আশঙ্কা করেছে অর্থনীতি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম)। শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি তাদের গবেষণার এ তথ্য তুলে ধরে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ খানার আয় ও ব্যয় নির্ধারণ জরিপের উপাত্ত ব্যবহার করে অর্থনৈতিক মডেলের মাধ্যমে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির একদল গবেষক বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতির উপর করোনা ভাইরাসজনিত অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্রভাব নিয়ে এই গবেষণা চালান।

এতে বলা হয়, এক মাস পেরিয়ে আসা এই লকডাউন তিন মাস স্থায়ী হলে দেশের মানুষের আয় ২৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। যে কোনো দুর্যোগে আয়ের ২৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রভাব পড়লে, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ৪০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাবে। নতুন করে আরও ২০ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ দরিদ্র হবে।

গবেষণার ফলাফলে আরো বলা হয়, তিন মাসের লকডাউনের ফলে পরিবারের আয় ন্যূনতম এক-চতুর্থাংশ কমে যাবে।
অর্থনৈতিক মডেলের ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশে নতুন যেসব মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নামতে পারে তাদের মধ্যে ফসল উৎপাদন, গবাদিপশু লালন-পালন ও মাছ  উৎপাদন খাত থেকে ৪৩ শতাংশ। তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য শিল্প খাতের ১৬ শতাংশ, খুচরা ব্যবসা ১১ শতাংশ, যোগাযোগ ব্যবস্থার ১০ শতাংশ এবং নির্মাণ খাতের ৭ শতাংশ।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, দেশের ৪০টি জেলার দারিদ্র্য হার জাতীয় হারকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap