প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাকা বাড়ি পাচ্ছেন সেই ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন

নিজের সঞ্চিত ১০ হাজার টাকা শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদের হাতে’ করোনা ভাইরাস ক্ষতিগ্রস্থ অসহায়, কর্মহীন ঘরে থাকা মানুষের খাদ্য সহায়তা তহবিলে দান করা দানবীর ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিন (৮০) কে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাকা বাড়ি করে দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ঝিনাইগাতি উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামে তৈরি হচ্ছে নাজিম উদ্দিনের জন্য বিশাল পাকাঘর। পাঁচ শতাংশ জমির উপর এ ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলছে পলেস্তারার কাজ। প্রত্যন্ত পল্লী গারো পাহাড়ের এ গ্রামে নাজিমকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ঘর দেখতে আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় প্রতিদিন আসছে লোকজন।

পুরো বাড়িটি ইট দিয়ে গেঁথে তোলা হয়েছে। সেখানে থাকছে দু’টি কক্ষ। বাড়ির ওপরে রঙিন টিনের ছাউনি। দু’পাশে লোহার গ্রিল দিয়ে বারান্দা করা হয়েছে। রয়েছে বড়সর রান্নাঘর, তারপাশে পাশে গোসলখানা ও শৌচাগার। সবমিলিয়ে একটি পরিপাটি বসতবাড়ি বৃদ্ধ নাজিম উদ্দিনের জন্য উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্র্রী শেখ হাসিনা।

পাকা বাড়ি পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘৮০ বছর বয়স অইলো। আইজ পর্যন্ত পাক্কা গরে থাহি নাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমারে পাক্কা ঘর কইরা দিতাছে। স্বপ্নেও ভাবি নাই আমার মত ভিখারি দালান ঘরে থাকমু। খুব ভাল লাগতাছে। আল্লাহ মাবুদ শেখ হাসিনারে বাঁচায়া রাখুক, সুখি করুক। আর দেশরে করুনামুক্ত করুক। এইডাই আমার চাওয়া।’

স্থানীয় এমপি প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সত্যিকার অর্থেই মানবতার মা। তিনি প্রত্যন্ত গ্রামের একজন ভিখারির দানকে গ্রহণ করে তাকে সম্মানিত করেছেন। দেশকে সম্মানিত করেছেন। এজন্যই শেখ হাসিনাকে জননেত্রী বলা হয়।

ঝিনাইগাতীর ইউএনও রুবেল মাহমুদ বলেন, ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন তিল তিল করে ঘর তৈরি করার জন্য অনেক কষ্টে ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছিলেন। সেই টাকা তিনি করোনা রোগীদের সেবায় সরকারি তহবিলে দান করেন। এ ঘটনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। ওই ভিক্ষুকের জন্য তিনি পাকা ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। আগামী জুলাই মাসে আমরা ওই ঘর তার কাছে হস্তান্তর করবো। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে প্রতিমাসে আমরা নাজিম উদ্দিনের জন্য খাদ্যসামগ্রী দিচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন তার জমানো ১০ হাজার টাকার পুরোটাই সরকারি ত্রাণ তহবিলে দান করে দেন। এ ঘটনায় তার উদার মানসিকতার প্রশংসায় মাতে সারাদেশ। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ওই ভিক্ষুকের মহানুভবতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

২৭ এপ্রিল রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলার সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘একজন ভিক্ষুক হয়েও তিনি আমাদের সামনে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি একজন কৃষক ছিলেন। কিন্তু পা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি ভিক্ষার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। এতো কষ্টের পরও তিনি তার জমানো ১০ হাজার টাকা ত্রাণ তহবিলে দান করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি মনে করি সমগ্র বিশ্বের জন্যই তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অনেক সময় সময় ধনী লোকেরাও এমন মানবতা দেখাতে পারে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ঘটনাই প্রমাণ করে বাংলাদেশের মানুষ কতোটা উদার মানসিকতার। কিন্তু এমন উদার মনোভাব ধনীদের মাঝে দেখা যাচ্ছে না। তারা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত আছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap