প্রস্তুত ফাঁসির মঞ্চ, যেকোনো সময় কার্যকর

যেকোনো সময় কার্যকর হতে পারে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আত্মস্বীকৃত খুনি মৃত‌্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (বরখাস্তকৃত) আব্দুল মাজেদের ফাঁসি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১১ এপ্রিল) অথবা রবিবার (১২ এপ্রিল) ফাঁসি কার্যকরের সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সকালে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এখন আর তার ফাঁসির রায় কার্যকরে কোনো বাধা নেই। এখন পরবর্তী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হবে।

এর আগে বুধবার (০৮ এপ্রিল) মৃত্যুর পরোয়ানা পড়ে শোনানোর পর সব দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান আবদুল মাজেদ। পরে প্রাণভিক্ষার আবেদনটি নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এদিকে, কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির মঞ্চটি নতুন করে ধোয়ামোছা করা হয়েছে। প্রস্তুত করা হয়েছেন ফাঁসি দেওয়ার জন্য। জল্লাদের একটি দলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ফাঁসি এখানে কার্যকর হয়নি। তবে মঞ্চটি সবসময় প্রস্তুত থাকে।

কারা সূত্রে জানা গেছে, প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি বাতিল করে দেওয়ার পর সেই চিঠিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছে। কারাবিধি অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে শবে বরাতের কারণে ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে না। এছাড়া শুক্রবারও ফাঁসি কার্যকরের কোনো সম্ভাবনা নেই। এরপরের দুদিন যেকোনো সময় ফাঁসি কার্যকর করা হতে পারে।

এর আগে সোমবার (০৬ এপ্রিল) দিনগত রাত ৩ টায়রাজধানীর মিরপুর থেকে আব্দুল মাজেদকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার শুনানির ১ ঘণ্টা পর দুপুর ১টায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। শুনানির সময় খুনি মাজেদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

এদিকে আব্দুল মাজেদের গ্রেপ্তারের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এখন মাজেদের বিরুদ্ধে রায় কার্যকর করার জন্য আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই রায় কার্যকর করা হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বরখাস্ত হওয়া ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ ২৩ বছর ধরে কলকাতায় আত্মগোপনে ছিলেন। গত ১৬ মার্চ তিনি ঢাকায় আসেন।

বিদেশে পলাতক বঙ্গবন্ধুর ছয় আসামির একজন ছিলেন আব্দুল মাজেদ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু বিপথগামী সেনা সদস্যদের হাতে নির্মমভাবে সপরিবারে খুন হন। এখন বঙ্গবন্ধুর পাঁচ দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন।

এরমধ্যে রাশেদ চৌধুরী আমেরিকায় ও নূর চৌধুরী কানাডায় অবস্থায় করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বেরিয়েছে। এছাড়া শরিফুল হক ডালিম, কর্নেল রশীদ, মুসলেহউদ্দীন রিসালদার পালাতক রয়েছেন।

ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে তিনি দায়িত্বে ছিলেন। রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের সামনে দিয়ে সন্দেহজনকভাবে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তিকে থামান। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন এবং বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। জিজ্ঞাসাবাদে মাজেদ আরও স্বীকার করেন, গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আত্মগোপন করে ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষ ক্যাপ্টেন মাজেদকে জামিন না দিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সরকারি কৌঁসুলি হেমায়েত উদ্দিন খান।

আবদুল মাজেদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর আরও কয়েকজন খুনির সঙ্গে ব্যাংকক হয়ে লিবিয়া চলে যান। এরপর তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান তাকে সেনেগালের দূতাবাসে বদলি করেন।

১৯৮০ সালে দেশে ফিরে আসার পর মাজেদকে বিআইডব্লিউটিসিতে চাকরি দেন জিয়া। সে সময় উপসচিব পদমর্যাদায় তিনি চাকরি করেন। আর সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান। পরে তিনি সচিব পদে পদোন্নতি পান। পরে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ে পরিচালক পদে যোগদান করেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার শুরু করে। সে সময় আত্মগোপনে চলে যান মাজেদ। তার স্ত্রী ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন। মাজেদের চার কন্যা ও এক ছেলে রয়েছে। তার ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap