প্রাথমিকে এবার নতুন সুখবর জানালেন সচিব

করোনায় পিছিয়ে পড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য টেলিভিশন ও বেতারে শ্রেণিপাঠের পর এবার চালু হতে যাচ্ছে মোবাইল ফোনে শিক্ষা পরামর্শ কার্যক্রম। বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর-৩৩৩৬ এ ফোন করে ভালোমানের শিক্ষকদের কাছ থেকে শ্রেণিপাঠ ও পরামর্শ নিতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এতে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত ফ্রিতে কথা বলা যাবে। সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই হেল্পলাইন নম্বরে যুক্ত থাকবে।

জানা গেছে, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শ্রেণির পাঠের পরামর্শ সংক্রান্ত কার্যক্রম চলতি জুনেই পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা হবে। উদ্যোগটি সফল হলে তা কোচিং সেন্টারের বিকল্প হবে বলে মনে করছেন প্রাথমিক শিক্ষাসংশ্নিষ্টরা। সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের সম্মিলিত উদ্যোগে এ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, ‘সংসদ টেলিভিশনের পর বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে প্রাথমিকের শ্রেণিপাঠ প্রচার করা হচ্ছে। টেলিভিশনে পাঠ সম্প্রচারে দেশের ৫০ ভাগ শিক্ষার্থী উপকৃত হচ্ছে। বাকি ৫০ ভাগ এর বাইরে থাকছে। রেডিওর পাঠে আরও স্বল্প কিছু শিক্ষার্থীকে যুক্ত করা যাচ্ছে। তবে মোবাইলের মাধ্যমে অন্তত ৯৮ ভাগ শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের কাছে শিক্ষা পরামর্শ ও শ্রেণিপাঠ পৌঁছানো সম্ভব হবে। এ কারণেই এই হেল্পলাইন চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে জানা গেছে, হেল্পলাইন ৩৩৩৬-এ কল করে শিক্ষার্থীরা প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির যে কোনো বিষয়ে সরাসরি পছন্দের শিক্ষকের পরামর্শ নিতে পারবে। এটি দিনরাত ২৪ ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। এখান থেকে প্রাথমিকের সিলেবাস, কারিকুলাম, পরীক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য কিংবা প্রাথমিক শিক্ষাবিষয়ক অন্যান্য যে কোনো আদেশ, নির্দেশ, তথ্য এবং ফোন নম্বর পাওয়া যাবে। প্রাথমিক শিক্ষাবিষয়ক যে কোনো অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলেও এই নম্বরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানাতে পারবে। এ অভিযোগ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়া হবে এবং অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত ব্যবস্থাও পরে অভিযোগকারীর মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেয়া হবে।

এ হেল্পলাইন কোনো বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়। সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় হবে এই মোবাইল শিক্ষাসেবা। অভিভাবকরা সন্তানের পক্ষে ফোন করে শিক্ষা পরামর্শ নিতে পারবেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, এই হেল্পলাইন এ মাসেই পরীক্ষামূলক চালু করা হবে। এটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক- সবারই কমন প্ল্যাটফর্ম। সরকারের এ উদ্যোগ সফল হলে তা কোচিং সেন্টারের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

মহাপরিচালক জানান, এর আগে স্বাস্থ্যসেবায় ১৬২৬৩ হেল্পলাইন চালু হয়েছে। একই রকমভাবে শিক্ষায় ৩৩৩৬ চালু হচ্ছে। দেশের প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক এতে নিবন্ধিত হয়ে যুক্ত থাকবেন। এক কোটি ৪০ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীও যুক্ত হবে। হেল্পলাইন নম্বরে কল করে শিক্ষার্থীরা পছন্দের শিক্ষক বাছাই করতে পারবে। এরপর তাদের জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নের জবাব তারা ওই শিক্ষকের কাছে থেকে পাবে।

‘এটুআইয়ের শিক্ষক বাতায়নে থাকা শিক্ষকরা এতে সরাসরি যুক্ত হবেন। বাকি শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীদের ডাটাবেস আপডেট করে দেয়া হচ্ছে। মোবাইলে শ্রেণিপাঠ ও শিক্ষা পরামর্শ সেবার পদ্ধতি নিয়ে এরই মধ্যে একটি মডিউলও তৈরি করা হয়েছে। আমাদের কাছে থাকা সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বর ওই হেল্পলাইনে যুক্ত করা হচ্ছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিচিতিও সেখানে থাকছে। এ হেল্পলাইন শুধু করোনাকালীন নয়, এটি স্থায়ী একটি সেবা, যা বছরজুড়েই চালু থাকবে’,- বলছিলেন মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap