বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর নিয়ে সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা প্রয়োজন : রেলমন্ত্রী

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, দেশের সর্ব উত্তরের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা নিয়ে সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। কারণ এই বন্দরটি ভৌগলিক অবস্থানের দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে স্টেকহোল্ডারগণের সাথে এক মতবিনিময় সভায় রেলমন্ত্রী একথা বলেন।

তিনি বলেন, অন্যান্য স্থলবন্দরের চেয়েও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর অনেক বেশি সম্ভাবনাময়। এই বন্দরের সাথে প্রতিবেশী নেপাল, ভূটান, চীন ও ভারতের অবস্থান। এরই মধ্যে তিন দেশের সাথে যোগাযোগ রয়েছে এবং রেললাইন পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা হয়ে শিলিগুড়ি সম্প্রসারণের বিষয়ে ভারতের হাইকমিশনার বাস্তবায়নের একটি প্রস্তাবও দিয়েছেন।

রেলমন্ত্রী বলেন, পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা রেললাইন সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরটি সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। কারণ এই বন্দর চারটি দেশের সাথে সংযুক্ত। এই বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে হবে। তিন দিকে সীমান্ত থাকায় এই সম্ভাবনাময় বন্দরের যায়গা অনেক কম। তাই অবকাঠামোসহ অন্যান্য ব্যাপারে দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করতে হবে।

এ ব্যাপারে একটি সুনির্দিষ্ট মহাপরিকল্পনা করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী মহলসহ জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, সকল উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সরকার এখন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে কাজ করছে। সরকার দেশের এবং মানুষের উন্নয়ন যাত্রাকে অব্যাহত রাখতে চায়।

তিনি আরও বলেন, পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেল সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের শিলিগুড়ি দিয়ে অন্যান্য দেশে রেল যোগাযোগ স্থাপনের চিন্তাভাবনা চলছে। পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের প্রকল্প কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যা অচিরেই চূড়ান্ত হবে। আশা করছি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।

নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ হলে এই স্থলবন্দরের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের রাজস্ব আয়ও অনেকাংশে বেড়ে যাবে। তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে অন্যান্য দেশের সাথে রেল যোগাযোগ স্থাপন করতে চাই।

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট, উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা, তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জহুরুল ইসলাম, বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্টের জেনারেল ম্যানেজার হাবিবুর রহমান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েসনের সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap