শাহজালালে টার্মিনাল-৩ নির্মাণকাজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে টার্মিনাল-৩ নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী জানিয়েছেন, ৪৮ মাসের মধ্যে নতুন টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হবে। তিনি বলেন, টার্মিনাল-৩ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে এ অঞ্চলের সেরা বিমানবন্দর।

২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন হলেও আইনি জটিলতাসহ নানা কারণে এ টার্মিনালের নির্মাণকাজ আটকে যায়। অবশেষে শনিবার তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ উদ্বোধন হলো। যা ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানায়, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে প্রায় ২১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে। তিনতলা বিশিষ্ট এ টার্মিনাল ভবনের আয়তন হবে দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে জাপানের মিতসুবিশি ও ফুজিটা এবং কোরিয়ার স্যামসাং—এই তিনটি প্রতিষ্ঠান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ভবন নির্মাণে কাজ করছে। টার্মিনালের নকশা করেছেন স্থপতি রোহানি বাহারিন।

এ টার্মিনাল নির্মাণ হলে বছরে আরও অতিরিক্ত এক কোটি ২০ লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারবেন। টার্মিনালটি এমন একটি ম্যাকানিজমে নিয়ে আসা হচ্ছে, যাতে কেন্দ্রীয়ভাবে এর প্রতিটি কাজ মনিটরিং করা যাবে।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান জানান, আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ নির্মাণকাজের উদ্বোধনের পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭-৯ সিরিজের নতুন দুটি ড্রিমলাইনার ‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখি’ উদ্বোধন করেছেন। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মোবাইল অ্যাপও উদ্বোধন করেন তিনি। এই অ্যাপ ব্যবহার করে বিমানের টিকিট কাটার ক্ষেত্রে যাত্রীরা ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন।

গত সেপ্টেম্বরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭-৮ সিরিজের চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধনকালে অত্যাধুনিক দুটি উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এগুলোর নাম রাখেন ‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখি’। এ দুটি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ায় বিমান বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap